ফুটবলের তারকা, অথচ টিভিতে খেলা দেখতেই বিরক্ত নেইমার!

ফুটবল তাঁর পেশা, পরিচয় ও ভালোবাসা। মাঠে বল পায়ে তাঁর জাদু দেখতে মুখিয়ে থাকেন কোটি ভক্ত। অথচ সেই ফুটবলই টেলিভিশনে বসে দেখতে পছন্দ করেন না ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র। শুধু অপছন্দই নয়, টিভিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফুটবল ম্যাচ দেখতে গেলে রীতিমতো বিরক্ত হয়ে পড়েন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই ব্যতিক্রমী অভ্যাসের কথা জানিয়েছেন সান্তোসের এই ফরোয়ার্ড।

ব্রাজিলের ‘ভারান্দা গুরমে’ চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেইমার বলেন, ফুটবলকে তিনি ভালোবাসেন ঠিকই, তবে তাঁর ভালোবাসা মূলত মাঠে নেমে খেলার জন্য। সোফায় বসে টেলিভিশনে একটি ম্যাচ দেখার মধ্যে তিনি সেই আনন্দ খুঁজে পান না। তাঁর এই স্বীকারোক্তি ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বেশ বিস্ময়কর, কারণ সাধারণত পেশাদার ফুটবলারদের খেলার প্রতি আগ্রহের একটি বড় অংশজুড়ে থাকে অন্য ম্যাচ দেখা ও বিশ্লেষণ করা।

নেইমারের ভাষ্য, বন্ধুদের সঙ্গে কিংবা সাক্ষাৎকারে নিজের এই অভ্যাসের কথা বললে অনেকেই বিশ্বাস করতে চান না। তবে টেলিভিশনে ম্যাচ দেখার বিষয়ে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট—খেলতে ভালোবাসেন, কিন্তু দীর্ঘ সময় বসে অন্যের খেলা দেখতে তাঁর ভালো লাগে না।

বার্সেলোনা ও প্যারিসে সতীর্থদের অভ্যাসে বিরক্তি

নিজের ক্লাবজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নেইমার জানান, বার্সেলোনা ও প্যারিসে থাকার সময় তাঁর সতীর্থরা ছুটির দিনগুলোতে টেলিভিশনে ফুটবল ম্যাচ দেখেই কাটাতেন। শনিবার ও রোববার সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলত খেলা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফুটবল দেখতে থাকা সতীর্থদের এই অভ্যাসে বিরক্ত হয়ে পড়তেন তিনি।

নেইমারের কথায়, এমন পরিস্থিতিতে তিনি অনেক সময় বসার ঘর ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যেতেন। অর্থাৎ, ফুটবল তাঁর পেশা হলেও অবসরের সময় একই খেলার সামনে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা তাঁর কাছে উপভোগ্য নয়।

এখানেই নেইমারের ব্যক্তিত্বের একটি ভিন্ন দিক উঠে এসেছে। মাঠে প্রতিপক্ষকে সামলানো, ড্রিবলিং, গোলের সুযোগ তৈরি করা কিংবা সতীর্থদের সঙ্গে সমন্বয় করে খেলার মধ্যে তিনি যে আনন্দ পান, টেলিভিশনে দর্শক হিসেবে বসে সেই অনুভূতি পান না।

বাস্কেটবলে আগ্রহ, ফুটবল নিয়ে তথ্যচিত্রও দেখেন

টেলিভিশনে সরাসরি ফুটবল ম্যাচ দেখতে অনীহা থাকলেও সব ধরনের খেলা বা ফুটবলবিষয়ক কনটেন্ট থেকে দূরে নন নেইমার। তিনি জানিয়েছেন, বাস্কেটবল দেখতে তাঁর ভালো লাগে, যদিও নিয়মিত নয়। ফুটবল নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্র ও বিভিন্ন ভিডিও কনটেন্ট দেখতেও তাঁর আপত্তি নেই।

এতে বোঝা যায়, ফুটবলের প্রতি তাঁর আগ্রহ কমে যায়নি। বরং খেলার সঙ্গে যুক্ত থাকার ধরনটি অন্যদের চেয়ে আলাদা। সরাসরি ম্যাচের বদলে গল্প, খেলোয়াড়দের জীবন কিংবা ফুটবলকেন্দ্রিক ভিডিওতে তিনি তুলনামূলক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

অবসরের পর এক বছর নিজের মতো থাকতে চান

সাক্ষাৎকারে পেশাদার ফুটবল ছাড়ার পরের জীবন নিয়েও কথা বলেছেন নেইমার। তাঁর পরিকল্পনা, অবসরের পর অন্তত এক বছর কোনো নির্দিষ্ট কাজের চাপ বা বাধ্যবাধকতা ছাড়াই সময় কাটাবেন। যেদিন ফুটবল খেলতে ইচ্ছা করবে, সেদিন খেলবেন; আর যেদিন কিছুই করতে ইচ্ছা করবে না, সেদিন বিশ্রাম নেবেন।

মাত্র ১৭ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবলে যাত্রা শুরু করা নেইমারের ক্যারিয়ারের বড় অংশ কেটেছে অনুশীলন, ম্যাচ, ভ্রমণ ও প্রতিযোগিতার মধ্যে। তাই দীর্ঘদিনের ব্যস্ত জীবন শেষে নিজের ইচ্ছামতো সময় কাটানোর পরিকল্পনা তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে সান্তোসের হয়ে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন ব্রাজিলিয়ান এই তারকা। মাঠে তাঁর ফুটবলপ্রেম অটুট থাকলেও টেলিভিশনে ম্যাচ দেখার বিষয়ে তাঁর অনীহা বরাবরই ব্যতিক্রমী। একজন বিশ্বখ্যাত ফুটবলারের এমন ব্যক্তিগত অভ্যাস ফুটবলপ্রেমীদের কৌতূহল বাড়িয়েছে। কারণ, যে খেলাকে ঘিরে তাঁর পুরো ক্যারিয়ার, সেই খেলাই দর্শক হিসেবে উপভোগ করার ক্ষেত্রে তাঁর এত অনাগ্রহ—বিষয়টি সত্যিই অন্য রকম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *